Posted on

Monthly Amar Eman

AmarEman

Monthly Amar Eman


 

 


২০ সেপ্টম্বর ২০১৯AmarEman010

বড়ই সর্বনাশ ঐসব নামাজীদের জন্য যারা নিজেদের নামাজ সমন্ধে উদাসীন। যারা কেবল’ দেখানোর জন্য নামাজ আদায় করে । [ সূরা-মাউন, আয়াত-৪,৫,৬ ] ।

 

 

 


১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইংAmarEman008

১০০ বছরের ইতিহাসে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত এর আমির

১। হযরত মাওলানা ইলিয়াস সাব (রহঃ) প্রথম হযরত জী।

২। হযরত মাওলানা ইউসুফ সাব (রহঃ) ২য় হযরত জী।

৩। হযরত মাওলানা এনামুল হাসান সাব (রহঃ) ৩য় হযরত জী।

৪। হযরত মাওলানা সা’দ সাব (দাঃবাঃ) বর্তমান ৪র্থ হযরত জী।

 


 

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিতে সা’দ সাহেবের কোন ভুল প্রমাণিত হয় নাই :- মুফতি আবদুল্লাহ কাসেম

মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী। দারুল উলূম দেওবন্দের অন্যতম কৃতিসন্তান। একাধারে বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন, লেখক ও গবেষক। এছাড়া একজন মুবাল্লেগ হিসেবে সুপরিচিত। ইমারত বিরোধী আলমী শূরার ফেতনার মোকাবেলায় যে ক’জন ইসলামী স্কলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি তাদের অন্যতম। মাসিক আত-তাহকীকের পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন নির্বাহী সম্পাদক মুআয বিন নূর।

মাসিক আত-তাহকীক : জামাতবদ্ধ দ্বীনি কাজের জন্য একক আমীর থাকা কি জরুরি?AmarEman006
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : অবশ্যই জরুরি। বুখারী-মুসলিম শরীফে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (ফেতনার যামানায়) তুমি মুসলিমদের জামাতের সাথে এবং আমীরের সাথে শক্তভাবে জুড়ে থাকো। তথন (বর্ণনাকারী সাহাবী হুযাইফা রাযি. বলেন) আমি বললাম, তখন যদি মুসলিমদের কোন জামাত ও আমীর না থাকে (তাহলে কী করণীয়)? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তখন তুমি সকল সংগঠন ও ফেরকাবাজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে সরে থাকবে।’ এই হাদীসের আলোকে যফর আহমদ উসমানী রহ. তার ‘ইলাউস সুনান’ কিতাবের ১২নং বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলাফত অথবা ইমারতভিত্তিক জামাতের সাথে জুড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা, খলীফা বা আমীরের তত্ত্বাবধান ছাড়া জিহাদ ও এজাতীয় ইজতিমায়ী আমলের বৈধতা নেই। আল্লাহ তায়ালা যেভাবে নামাজ পড়া ফরজ করে দিয়েছেন ঠিক তেমনিভাবে দ্বীন কায়েম করাও ফরজ করে দিয়েছেন। তাই নামাজের জন্য যেভাবে জামাত বদ্ধ হয়ে ইমামের আনুগত্য জরুরি তেমনি ইকামাতে দ্বীনের জন্যও জামাতবদ্ধ হয়ে একক আমীরের ইতায়াত করা জরুরি।
ফরজ নামাজ হলো ইজতেমায়ী আমল। এই নামাজের জন্য জামাত ও ইমাম যতটুকু জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো জামাতবদ্ধ হয়ে এক আমীরের ইতায়াতে দ্বীন কায়েম করা। অর্থাৎ, নামাজের জন্য জামাত ও ইমাম থাকা সবার দৃষ্টিতে ফরজ নয়, কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল উলামায়ে কেরাম ইকামাতে দ্বীনের জন্য জামাতবদ্ধ থেকে একক আমীরের আনুগত্য করে দ্বীন কায়েমের মেহনত করা যে ফরজ, এ বিষয় দ্বিমত পোষণ করেননি। (সূরা শুআরা : ১৩, মাজমাউল ফতওয়া, ইবনে তাইমিয়া)

মাসিক আত-তাহকীক : কেউ কেউ বলছেন, কোন দ্বীনি জামাতের আমীর থাকা ও তাকে মানা মোবাহ ও মোস্তাহাব। অপরদিকে পালাক্রমে ১৩ আমীরের সমন্বয়ে গঠিত আলমী শূরাও বৈধ। শরিয়তে এমন দাবী কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : তিনটি কারণে এমন উদ্ভট ভ্রান্ত দাবি করা যেতে পারে।
১. জাহালতের কারণে হতে পারে।
২.‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ তথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মোকাবেলার উদ্দেশ্যে হতে পারে।
৩. অথবা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসকে অবজ্ঞা করাও উদ্দেশ্য হতে পারে।

মাসিক আত-তাহকীক : আপনার উপরোক্ত বক্তব্য কিসের ভিত্তিতে?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : বর্তমান বিশ্বের সকল উলামায়ে কেরাম দুই মহান ব্যাক্তিত্বকে শরীয়াহ ক্ষেত্রে অনুসরণ করে থাকেন। এক শ্রেণীর উলামায়ে কেরাম মুসনাদুল হিন্দ শায়খুল ইসলাম শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. কে অনুসরণ করে থাকেন। অপর এক শ্রেণীর উলামায়ে কেরাম শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ.কে ফলো করে থাকেন। আসুন এই ব্যাপারে কেবল এই দুজন মনীষীর মতামত জেনে নেই! শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রহ. তাঁর লিখিত ‘إزالة الخفاء عن خلافة الخلفاء’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ‘إقامة الدين تتوقف علي نصب رجل يهتم بهذا الأمر اهتماما بالغا’ যার দ্বারা প্রমাণ হয়, এক আমীর নির্ধারণ করা ছাড়া দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়। মূলত তিনি এই রূপরেখা দিয়েছেন সূরা শূরার ১৩ নং আয়াতের আলোকে। ইরশাদ হচ্ছে, أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ। অর্থাৎ, ‘তোমরা সম্মিলিতভাবে দ্বীন কায়েম করো। দ্বীন কায়েমের ব্যাপারে তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণের যুগে এক আমীরের ইতায়াত বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দ্বীন কায়েমের মেহনত করার কোন রূপরেখা ছিলো না। দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে যারা ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ এর ত্বরীকা বাস্তবায়ন করাকে জরূরী মনে করে এবং এ ত্বরীকার বিপরীতে নতুন আবিষ্কৃত সকল ত্বরীকা বর্জন করা জরূরী মনে করে তারাই হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত।
শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. তাঁর লিখিত ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ নামক গ্রন্থের ২৮নং খন্ডের ৬১ নাম্বার পৃষ্ঠায় বলেন,‘ ইমারত ও বেলায়ত এর উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর দ্বীন সকল ধর্ম কর্মের উপর সমুন্নত করা। এজন্য আল্লাহ তায়ালা কিতাব নাজিল করেছেন ও রাসুলদের পাঠিয়েছেন। এর জন্য রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম জিহাদও করেছেন। মানুষের জীবনই হলো ইজতেমায়ী জীবন। ইজতেমায়ী কাজের জন্য ইমারত ও ইতায়াত জরুরি। এজন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফররত তিন ব্যক্তির মধ্যেও একজনকে আমীর বানিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। (আবু দাউদ)।
অপর এক হাদীসে বলেছেন, এধরণের তিন ব্যক্তির জন্য একজনকে আমীর না বানানোর কোন বৈধতা নেই।(মুসনদে আহমদ ইবনে হাম্বল।) ইবনে তাইমিয়া রহ. তারপর বলেন, যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনজনের ক্ষণস্থায়ী ছোট এক জামাতে একজনকে আমীর বানিয়ে নিতে আদেশ করেছেন, সেখানে স্থায়ী বড় জামাতের জন্য আমীর থাকা উত্তম পন্থায় ওয়াজিব প্রমাণিত হয়।’ (সংক্ষেপণ)
এই দুই মনীষীর কথা থেকে পরিষ্কার প্রমান হয়, বিশ্বব্যাপি দাওয়াত ও তাবলীগের এত বড় ও বিশাল জামাতের জন্য আমীর থাকা গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বটে। অতএব, এ হাদীসের আলোকে মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর ন্যায় মাওলানা সা’দ কান্ধলভীও নবীজির হাদিস দ্বারা স্বীকৃত আমীর হিসেবে গণ্য হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যারা আমীরের ইতায়াত করলো তারা আমারই ইতায়াত করলো। পক্ষান্তরে যারা আমীরের বিরোধিতা করলো, তারা মূলত আমারই বিরোধিতা করলো।’ (বুখারী শরীফ)।
মাসিক আত-তাহকীক : ইমারত ও ইতায়াতের এত এত সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও এরা কী কারণে আমীরের ইতায়াতের দলীল খোঁজে পায় না? আপনি বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : মূলত তারা নতুন দ্বীনের প্রত্যাশী। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনকে ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’এর তরীকা থেকে ইনহেরাফ (বিকৃত) করতে চায়। কেননা তারা জানে, দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কামিয়াবী একমাত্র ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’এর তরীকার মাঝেই বিদ্যমান। এই তরীকা ছেড়ে দিলেই আর কোন সফলতা লাভ হবে না। তাই যেকোন মূল্যে নানান চটকদার অপব্যাখ্যা ও দ্বীনের মাঝে তাহরিফ (বিকৃতি সাধন) করে ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’এর তরীকা থেকে উম্মতকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে তারা উঠে পড়ে লেগেছে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশের প্রতিও তারা অবজ্ঞা করতে কুন্ঠাবোধ করছে না। অথচ কে না জানে, আমর বিল মারুফ ও নাহী আনিল মুনকার এবং জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ তথা সারা পৃথিবীতে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার আদেশসমূহ পালন করা কারো পক্ষে একাকী সম্ভব নয়? এজন্য সম্মিলিতভাবে মেহনত করা অপরিহার্য্য। আর একক আমীর ব্যতীত অন্যকোন পদ্ধতিতে উম্মতকে সম্মিলিত কোন প্লাটফর্মে একত্রিত করা কষ্মিণকালেও সম্ভব নয়। যা ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’এর বিকল্পহীন শিক্ষা।

মাসিক আত-তাহকীক : ইকামাতে দ্বীনের জন্য ইমারতভিত্তিক দাওয়াতের কী সম্পর্ক?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : প্রথমেই জানতে হবে, আমর বিল মা‘রূফ, নাহী আনিল মুনকার এবং জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ সহ সকল আদেশ-নির্দেশ মান্য করার জন্যই ইমারত ও খেলাফত গঠন করা জরূরী। এ বিষয়ে সমাধান আমরা ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’এর তরীকার মধ্যেই খুঁজলে পাবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও সাহাবায়ে কেরামের তা‘আমুল থেকে বুঝা যায়, তারা দ্বীন কায়েমের জন্য সম্মিলিত পদ্ধতি বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোন মেহনত করেন নাই। তাদের দাওয়াত ইলাল্লাহর পূর্ণাঙ্গ মেহনত খেলাফত ও ইমারতভিত্তিক ছিলো। এজন্য উলামায়ে কেরাম লিখেছেন, ইমারত অথবা খেলাফতের তত্বাবধান ছাড়া সম্মিলিত দাওয়াত তথা জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর মেহনতের কোন বৈধতা নেই। (বিস্তারিতঃ ই‘লাউস সুনান, ১২নং খ-)। উল্লেখ থাকে যে, ইমারতভিত্তিক দ্বীনী দাওয়াতের উপর ভিত্তি করেই খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াহ কায়েম হওয়ার ওয়াদা রয়েছে। তবে সকল ‘দায়ী ইলাল্লাহ’ ভাইদের মনে রাখতে হবে, হযরতজ্বী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রহ. বলেছিলেন, ‘খেলাফত এ কাজের মাকসূদ বা উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সš‘ষ্টি অর্জন করা। তবে মাকসূদের সাথে সাথে ‘মাওঊদ’ এর উপরও ইয়াক্বীন রেখে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

মাসিক আত-তাহকীক : খেলাফত ও ইমারতের মধ্যে পার্থক্য কী?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : খেলাফতের পূর্ব প্রক্রিয়া হলো ইমারত। খেলাফত ও ইমারত এই দুটি বিষয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলেও উভয়ের ইতায়াত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। যে পদ্ধতিতে খেলাফতের আমীর নিয়োগ দেয়া হয়, একই পদ্ধতি অবলম্বন করে হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধালভী রহ তাঁর ইমারতভিত্তিক দাওয়াতী মেহনতের দ্বিতীয় আমীর নিয়োগ দিয়েছেন। আর তিনি আরো বলেছেন, এসময় কুফুর ও ইলহাদ অনেক শক্তিশালী। এই অবস্থায় ইনফেরাদী মেহনত দ্বারা আশাতীত ফল কখনো পাওয়া যাবে না। সকল শক্তি প্রয়োগ করে ইজতেমায়ীভাবে মেহনত করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا (কিস্ত নং ১১, মালফুজাত নং ১৮০)’ এর দ্বারা তিনি ইমারতকেই বুঝিয়েছেন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. তার লিখিত ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ নামক গ্রন্থের ২৮নং খন্ডের ৩৯০ পৃষ্ঠায় বলেন,’ আল্লাহ তা‘আলা আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারকে ওয়াজিব করেছেন। আর এই ওয়াজিবগুলো শক্তিবল ও ইমারত বিহীন পালন করা সম্ভব নয়। এজন্য ইমারত গঠন করা ওয়াজিব।’ ইতায়াতের ক্ষেত্রে ইমারত ও খেলাফতের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তবে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে। জেনে রাখা উচিত, ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতের উপরই প্রতিশ্রুত খেলাফত লাভ হয়। আকাবিরে দেওবন্দের অন্যতম সৈয়দ আহমদ বেরলভী রহ. এর জীবন থেকেও আমরা এই শিক্ষা পাই। সৌদী আরবের মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব রহ. এর জীবনকর্ম থেকেও এটা বুঝা যায়।
অতএব, যারা ইমারতভিত্তিক দাওয়াতের বিরোধিতা করে তারা আসলে কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।
‘হযরতজী ইলিয়াস রহ এর ইমারতকে কেউ কখনো খেলাফত বলেন নি’ কেউ কেউ এমন অবান্তর প্রশ্ন সম্প্রতি সামনে আনছেন। এই ইমারত ভিত্তিক দাওয়াতের কাজকে খেলাফতের দোহাই তুলে অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই। তাদের এসব বলার পেছনে সুগভীর একটি ষড়যন্ত্র রয়েছে। এরা দ্বীনকে ইমারতশূন্য করার বিজাতীয় মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। যারা ইমারতবিলুপ্তির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা কিভাবে নিজেদেরকে ইলিয়াস রহ. এর তাবলীগের সাথী হিসেবে পরিচয় দেয়? অথচ ইলিয়াস রহ. ইমারত গঠনের পাশাপাশি দাওয়াত ইলাল্লাহর এই কাজকে আলমী মেহনত হিসাবে পেশ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইমারতবিরোধীরা এই বিশ্বজনীন মেহনতকে ‘বাংলাদেশ স্বতন্ত্র তাবলীগ’ বলে প্রমান করে দিয়েছে যে, এরা ইলিয়াস রহ. এর চালুকৃত বিশ্বজনীন তাবলীগ করে না। বরং ইলিয়াস রহ. ইমারতভিত্তিক বিশ্বজনীন তাবলীগের বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে।

মাসিক আত-তাহকীক : আমীরের আনুগত্যের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ, শক্তি, অধিকার ও কুওয়াতে ক্বাহেরা থাকা কি জরুরি? যেটি খলিফার জন্য প্রযোজ্য?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : আমীর ও খলিফার ইতায়াতের ইল্লত কুওয়াতে ক্বাহেরা নয়, বরং ইতায়াতের ইল্লত হলো ইমারত ও খেলাফত। তাই খলিফার ন্যায় আমীরের ইতায়াতও ওয়াজিব। খেলাফত ও ইমারত দুটি ভিন্ন বিষয়, যা আমি পূর্বেই বলেছি, ইমারত গঠন করা খেলাফতের ন্যায় ওয়াজিব। তাই ইমারতের আমীরের ইতায়াত করাও ওয়াজিব। সেখানে ইমারতের আমীরের ইতায়াতের ক্ষেত্রে ক্বুওয়াতে ক্বাহেরার প্রশ্নই আসে না।
মাসিক আত-তাহকীক : একশ্রেণীর নামধারী আলেম বর্তমান বিশ্বআমীরের আমীর হওয়ার প্রদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : যারা ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ তথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ইমারতনীতির কট্টর বিরোধী, তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আমীর হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কোন কথা বলার নীতিগত অধিকার রাখে না। যারা আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার সংক্রান্ত আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নের নকশার পক্ষে নয় এবং যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ অবজ্ঞা করার দুঃসাহস দেখায় তারাই সেই সংঘবদ্ধ চক্র, যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদার বিপরীতে ইমারতের সমালোচনা করছে ও তাঁর আমীর হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এটা তাদের স্বভাবগত চরিত্র।
মাসিক আত-তাহকীক : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি বিরোধী, নব আবিষ্কৃত আমীরবিহীন শূরায়ী ফেতনার কাছে ইমারতকে ছেড়ে দেয়া বা হস্তান্তর করার কী কোন সুযোগ আছে?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর ইমারত সারা দুনিয়ায় শতবছরের হকপন্থী উলামায়ে কেরামের সমর্থনে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। সারাবিশ্বের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী মুসলমানগণ এই ইমারত টিকিয়ে রাখার জন্য বিশাল কুরবানী দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এরকম প্রতিষ্ঠিত একটি ইমারত বিলুপ্ত করা কিংবা ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। হাদীসের ভাষায় প্রমাণ হয়, সম্মিলিতভাবে কোন সুন্নতের স্থলে যদি কোন বেদআত গ্রহণ করা হয় তাহলে সেই সুন্নতকে আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামত পর্যন্ত উঠিয়ে নিবেন।

মাসিক আত-তাহকীক : কিছু লোক বলছে, হযরত উমর রাযি. আমীর নির্ধারণের জন্য ৬জনের যে শূরা করেছিলেন, এই জামাত নাকি আমীর বিহীন শূরার প্রমান বহন করে।
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : পরবর্তি আমীর বা খলিফা নির্ধারণের অনেক পদ্ধতির মাঝে হযরত আবু বকর ও হযরত উমর খলিফাদ্বয়ের আমলে দুটি পদ্ধতি পরিলক্ষিত হয়। একটি আবুবকর রাযি নিজে পরবর্তী খলীফা নিয়োগ করেছেন আর উমর রাযি শূরার উপর দ্বায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এখন বুঝার বিষয় হলো, উমর রাযি এর শূরার জামাততো আমীর নির্ধারনের দ্বায়িত্বশীল জামাত। হযরত উমর রাযি আনহু যদি ছয় জন থেকে একজন আমীর নির্ধারণ করে দিতেন তাহলে তো আবু বকর রাযি. এর মতো পরবর্তী আমীর তখনি নির্ধারণ হয়ে যেত । তখন তো শূরার প্রয়োজনই থাকে না। তাই এই আমীর নির্ধারণের দ্বায়িত্ব পাওয়া শূরার জামাতের তো কোন আমীর থাকার প্রশ্নই জাগে না। যারা এতটুকু জ্ঞান রাখে না, তারা ফতোয়ার মসনদে বসে কথা বলে কোন সাহসে! আরো হাস্যকর বিষয় হলো, যারা একদিকে ইমারতের দলীল হিসাবে খেলাফত প্রদ্ধতির বিধান আনতে আপত্তি তুলছে তারাই আবার আলমী শূরা প্রমানের জন্য হযরত উমর রাযি. এর খলিফা নির্ধারণের শূরাকে আলমী শূরার প্রমান হিসাবে উপস্থাপন করার ভ্রান্ত চেষ্টা করছে।

মাসিক আত-তাহকীক : মাওলানা ইলিয়াস রহ এর ইমারত ভিত্তিক দাওয়াত কি নতুন কোন পদ্ধতি নাকি রাসুলের যুগ থেকে থেকে চলে আসা মেহনত? ইসলামের কোন যুগে কি আমীরবিহীন ‘আলমী শূরা’ ছিল?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : মূলত এখানে বিষয় দু‘টি। ক. দাওয়াতে ইলাল্লাহ। দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজটি হযরত নুহ আ. এর জমানা থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সকল রসুলের যুগে ছিল। কিন্তু কোন যুগেই ‘আলমি শূরা’ ছিল না। একমাত্র রাসুলগণই দায়িত্বশীল ছিলেন। মক্কায় অবস্থানকালীন ১৩ বছর নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের জিন্দেগী ছিলো ইমারতের সদৃশ। আর মদাীনায় হিজরতের পর বাকী ১০বছর তিনি রিসালতের পাশাপাশি খিলাফতেরও দ্বায়িত্বশীল ছিলেন। তাই বলা যায়, নবী সা. এর যুগে নবুওয়াত ও রিসালাতের পাশাপাশি দাওয়াতে ইলাল্লাহর মেহনত পরিচালিত হয়েছে ইমারত ও খেলাফতের অধীনে। একারণে নবীজির ইন্তেকালের পরে সমগ্র সাহাবায়ে কেরাম নবীওয়ালা এই গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতী কাজকে খেলাফতের অধিনে আঞ্জাম দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয়, দাওয়াত ইলাল্লাহর জামাতের জন্য খেলাফত বা এ নীতির ইমারত অত্যাবশ্যক। এটি হলো ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ এর দাওয়াতি ত্বরীকা। ইসলামের কোন যুগে পালাক্রমে ১৩ আমীরের আলমী শূরার নজির ছিল না বিধায় এটি অগ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাক্ষাত। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দ্বীনের মধ্যে নতুন যা কিছু আবিষ্কৃত বা অন্তর্ভুক্ত হবে তা চূড়ান্তরূপে প্রত্যাখ্যাত। এছাড়াও এটা ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ এর ত্বরীকার পরিপন্থী গণ্য হবে।
বলা বাহুল্য, ইসলামের সোনালী যুগ থেকেই দাওয়াত চালু আছে। কিন্তু এ যাবতকাল পর্যন্ত আলমী শূরার কোন কল্পনাও কেউ করে নি। যেভাবে একশ্রেনীর রাজনৈতিক মৌলভী পশ্চিমা অনুকরণে ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ এর ত্বরীকা পরিহার করেছে ঠিক সেভাবেই নামধারী একশ্রেনীর লেবাসধারী মৌলভী ‘ما أنا عليه و أنا أصحابي’ এর ত্বরীকা বাদ দিয়ে মিঃ লেলিন ও মিঃ স্ট্যালিন এর কুফরী মতবাদ গ্রহনের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খ. ইমারত। ইজতিমায়ী দাওয়াত ও জিহাদের জন্য যেহেতু ইমারত শর্ত তাই মাওলানা ইলিয়াস রহ. এই দাওয়াতের সহিত ইমারত গঠন করেছেন। অনুরূপ মাওলানা সা’দ কান্ধলভীও জানবাজি রেখে ইমারত টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

মাসিক আত-তাহকীক : এখন প্রশ্ন হলো ইমারত ছাড়া তাহলে কি বিগত ২৩ বছর তাবলীগ মি. লেলিন ও মি. স্ট্যালিন এর ত্বরীকায় চলছিল?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : না, কখনো নয়। মাওলানা ইলিয়াস রহ থেকে শুরু করে মাওলানা এনামুল হাসান রহ পর্যন্ত ইমারতই ছিল। অতঃপর এনামুল হাসান রহ আমীর নির্ধারণের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলেন ১০ জনের একটি শূরা কমিটির উপর। তারা বিষয়টির ক্ষমতা ৩ শূরার উপর অর্পন করে বাকি ৭ জন অব্যাহতি নেন। এবার ৩জন থেকে একজন আমীর নির্ধারণে বিলম্ব ঘটে। এর মাঝে বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের কোন কোন মুকিম এই ৩জন ব্যতিত গোপনে নিজ কামরায় তাসাউফের নামে বাইয়াত নিতে শুরু করেন। তখন মাওলানা সা’দ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম হস্তক্ষেপ করে এধরনের বিচ্ছিন্ন বাইয়াত বন্ধের আদেশ দিয়ে বললেন, ‘এখনো আমীর নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। অথচ অবৈধভাবে বাইয়াত নেয়ার মত খেয়ানত করা হচ্ছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, তারা পালাক্রমে আমীর ছিলেন না। বরং একজনের বদলে তিনজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল একটি সমস্যায় পতিত হয়ে। আমীর নির্ধারণ প্রক্রিয়া কোন কারণে বিলম্বিত হয়েছিল। অতঃপর এই তিন শূরা থেকে দু’জনকে আল্লাহ তায়ালা তার কাছে ডেকে নিলে পূর্ববর্তী আমীরের নির্বাচিত শূরার কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় শরিয়তের আইনের আলোকে তিনিই পূর্ববর্তী আমীরের নির্বাচিত আমীর সাব্যস্ত হন। তবে এজন্য তাকে আমীর হওয়ার ঘোষণা বা দাবি করা আবশ্যক।

মাসিক আত-তাহকীক : মাওলানা সা’দ কান্ধালভী তখন তাকমিলে শূরা তথা পূনরায় শূরা গঠন না করেই কিভাবে আমীর হয়ে গেলেন?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিতে পরবর্তী আমীর নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা পূর্বের আমীরের উপরই ন্যাস্ত থাকে। এটি কেবল তারই হক। এক্ষেত্রে অন্য কারো কোন অধিকার নেই। তাই পূর্ববর্তী আমীরের নিয়োগপ্রাপ্ত আমীরের উপর যেমন কারো কোন হস্তক্ষেপ করার অধিকার নাই, ঠিক তেমনি পূর্ববর্তী আমীরের নির্বাচিত শূরায় রদবদল করার ক্ষমতা বা যোগ-বিয়োগ করার ক্ষমতাও কারো নেই। তাই মাওলানা সা’দ সাহেবের জন্য তাকমিলে শূরার সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই, তেমনি অন্য কারোও নেই। তাই যারা তাকমীলে শূরার প্রশ্ন তুলেছেন, তারা পশ্চিমানীতির অনুকরণে শরীয়তের আইনের অবজ্ঞা করেছেন।

মাসিক আত-তাহকীক : হযরত ইলিয়াস রহ. এর ইমারতের সাদৃশ্যপূর্ণ কোন নজীর কি ইসলামের কোন যুগে ছিলো নাকি এটা নব আবিষ্কৃত?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : হ্যাঁ, এই ধরণের নজীর ইসলামের ইতিহাসে অনেক রয়েছে। আকাবিরে দেওবন্দের সুলূকের বাইয়াত ও মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর ইমারতের বাইয়াতের মাঝে কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় নি। যদিও নেসাবের মাঝে পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। কারণ, আকাবিরে দেওবন্দের তাসাউফের শায়েখ একজনই থাকতেন, একাধিক ছিলেন না। আর তাদের তাসাউফের উদ্দেশ্যও খানকা ছিলো না। বরং ময়দান ছিলো। মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ. থেকে শুরু করে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. হয়ে রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. পর্যন্ত বাইয়াতের শায়েখ একজনই থাকতেন। এ কারণে গাঙ্গুহী রহ. এর উপস্থিতিতে হুজ্জাতুল ইসলাম কাসেম নানুতুবী রহ. কারো বাইয়াত গ্রহণে রাজী ছিলেন না। এভাবে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. এর শায়েখের শায়েখ আবদুর রহীম ওয়ালায়াতী রহ. তার মুরীদ নূর মুহাম্মদ ঝাঞ্জানভী রহ. সহ তার কাছ থেকে ইজাযতপ্রাপ্ত সকল মুরীদকে নিয়ে সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। ঠিক এভাবেই শাহ আবদুল আজীজ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. নিজে বাইয়াত করা বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে সৈয়দ আহমদ বেরলভীর হাতে বাইয়াত হওয়ার আদেশ দিলেন। এ সময় সৈয়দ আহমদ বেরলভী রহ. এর হাতে শায়খুল ইসলাম ইসমাঈল শহীদ ও হুজ্জাতুল ইসলাম আবদুল হাই রহ. বাইয়াত গ্রহণ করেন। এখান থেকেই প্রমাণিত হয়, আকাবিরে দেওবন্দের মাঝে একই সময়ে একাধিক মুরুব্বী ছিলেন না। এছাড়াও সৌদী আরবের মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের দাওয়াত ও বাইয়াত ছিলো মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর দাওয়াত ও বাইয়াতের সদৃশ।

মাসিক আত-তাহকীক : আপনি তো বললেন, আকাবিরে দেওবন্দের সুলূকের বাইয়াত খানকার জন্য নয়, বরং ময়দানের জন্য ছিলো। তাহলে ইলিয়াস রহ. এর বাইয়াত আবার কোন ময়দানের জন্য?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : ইলিয়াস রহ. তার মালফূযাতের ৩৮ নং ধারায় বলেন, ‘ইহাও বুঝিয়া লও, আমি ঠিক সত্য বলিতেছি, এখনো আসল কাজ শুরু হয় নাই। যেদিন প্রকৃত কাজ শুরু হইয়া যাইবে, মুসলমান সাত শত বৎসর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়া যাইবে। আর যদি কাজ শুরু না হয় বরং বর্তমানে যেই অবস্থা আছে সেই অবস্থায় থাকে, লোকেরা ইহাকেও অন্যান্য আন্দোলনের মত এক আন্দোলন (তানযীম, তাহরীক) বলিয়া মনে করে ও কর্মীরা ভুল ভ্রান্ত পথে চলে তাহা হইলে যেই ফেতনা শত শত বছর পরে আসিত তাহা কয়েক মাসের মধ্যে আসিয়া পড়িবে। এই জন্য ইহাতে বুঝিবার জরুরত আছে।’
তাই বলছি, এখনো আসল কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে শুধু আসল কাজ শুরুর পূর্বশর্ত পালন করা হচ্ছে। কারণ, নিজের মধ্যে ইসলাহ ও ইতায়াতের গুণ না আসা পর্যন্ত জাতির ইসলাহ সম্ভব নয়। এটাই হলো মক্কী জিন্দেগীর তালীম। মক্কী জিন্দেগীতে যারা নবীজীর ইতায়াতে থেকে ব্যক্তি জিন্দেগীর ইসলাহ করেছিলেন তাদের হাতেই মাদানী জিন্দেগীতে ইসলামের বিজয় এসেছে। তারাই ইতায়াতের সহিত উম্মতের ইসলাহের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন।

মাসিক আত-তাহকীক : আলোচিত বিষয়ে খুব চমৎকার ব্যখ্যা পেলাম। আপনার কাছে আরেকটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাই। বর্তমান বিশ্বআমীরের যেসব ভুল ধরা হয়েছে, এর দ্বারা কি আমীরের ইমারত বাতিল হয়ে যায়?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিতে মাওলানা সা’দ সাহেবের কোন ভুল প্রমাণিত হয় নাই।
মাসিক আত-তাহকীক : কিছু আলেম তো তার ভুল ধরছেন। এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : ইমারত অস্বীকারকারী সংঘবদ্ধ চক্রটি ছাড়া আর কেউ কখনো ‘তিনি ভুল করেছেন’ এমনটি বলেন নি, এখনো বলছেন না। ইমারতের বিপরীতে আলমী শূরা নামক ফেৎনা শুরুর আগপর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও কোন একজন তার ভুল ধরার রাজনীতি’ করে নি। এই ভুলগুলো ‘আলমী শূরা’ পদপ্রার্থীদের রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়।

মাসিক আত-তাহকীক : এই ভুল ধরা কি ইমারতের উপর কোন প্রভাব ফেলবে?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : না, এতে ইমারতের উপর কোন প্রভাব পরবে না। দেখুন সাহাবায়ে কেরামের শেষ যুগে যারা হযরত উসমান ও আলী রাযি ইমারতকে অস্বীকার করছে তারাই হযরত উসমান ও আলী (রাযি.) এর বিরুদ্ধে নানা আপত্তি ও অভিযোগ তুলে জনগণকে উত্তেজিত করেছে। তখন খলিফায়ে রাশেদদ্বয়ের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত যে মত পোষণ করেছিলো বা যে অবস্থান গ্রহণ করেছিলো, আজও আমরা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসরণে হযরত মাওলান সা’দ কান্ধলভীর ব্যাপারেও সেই একই মত পোষণ করে আসছি। পক্ষান্তরে যারা তার বিরোধিতা করে আসছে তারা সে যুগের খাওয়ারেজদের পথই অনুসরণ করে চলছে। তখন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সেই অভিযোগগুলোকে সাজানো ও পরিকল্পিত হিসেবেই চিহ্নিত করেছে। আজ আমাদের কাছেও এগুলো সাজানো ও পরিকল্পিত হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলমান অভিযোগগুলো সেই খাওয়ারিজদের অনুসরণেই তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। তাই খাওয়ারিজরা যেভাবে আলী রাযি. এর সাথে বসে বিষয়টি মিমাংসা করে নাই, বর্তমানেও তারই অনুসরণ চলছে। সম্পূর্ণ খাওয়ারিজদের অনুসরণে দূর থেকে তারা দোষচর্চা করে বাজার গরমের চেষ্টা ও ফেতনা তৈরির অসৎ পরিকল্পনা করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছে না বা তার সাথে বসে আলোচনা করার চিন্তাও করছে না। তার আনুগত্যশীল জামাতের সাথে সেই আচরণই করছে যা হযরত আলী রাযি: এর আনুগত্যশীল জামাতের সাথে করা হয়েছিল।

মাসিক আত-তাহকীক : আপনি খাওয়ারিজদের কথা বারবার বললেন। ইসলামের ইতিহাসে কাদের খাওয়ারিজ বলা হয়? তাদের পরিচয় কি?
মুফতি আবদুল্লাহ কাসেমী : যারা ইমারতনীতি অস্বীকার করে এবং আমীরের বিরুদ্ধে গুমরাহী কিংবা কুফরীর অভিযোগ সাঁজিয়ে আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করে তাদেরকে ইতিহাসে খাওয়ারিজ বলে। তারা হলো, ইসলামের সর্বপ্রথম বাতিল ফেরকা। তাদের মৌলিক আকীদা হলো, কবীরা গোনাহে পতিত ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। এজন্য তার সাথে জিহাদ করা ওয়াজিব। আরেকটি আকীদা হলো, মুসলিম হুকুমত যদি ‘জালেম’ ও ‘জাবের’ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা হলো, কবীরা গোনাহে পতিত ব্যক্তিকেও কাফির বলা যাবে না। মুসলিম হুকুমত যদি জালেমও হয় তবুও তার বিদ্রোহ করা যাবে না। তবে তার কাছে সংশোধনের জন্য দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে।
খাওয়ারেজ নামের এই ফেরকার কারণেই সারাবিশ্বে আজ মুসলিমদের মাঝে হানাহানি ও অশান্তি বিরাজ করছে। যেভাবে অতীতে তৃতীয় ও চতুর্থ খুলাফায়ে রাশেদদ্বয়ের যুগেও তারা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ ও অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। তাই মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও পারষ্পরিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আমীরবিরোধী খাওয়ারেজের অনুসারীদের থেকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।  ( সংগ্রহিত )

 

 


১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং AmarEman004

হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হইতে বর্নিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি এই একীনের সহিত মৃত্যুবরণ করিল  যে, আল্লাহ তায়ালার (অস্তিত্ব) হক, সে বেহেশতে প্রবেশ করিবে।

( আবু ইয়ালা )

 

 


১১ সেপ্টম্বর ২০১৯ AmarEman003

১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আসর থেকে এশা পর্যন্ত গুলিস্তান সেন্ট্রাল মসজিদে নিজামুদ্দিনের জোরের বয়ানাত এবং ফায়সালাসমূহের বিস্তারিত কারগুজারী হবে। ঢাকার সকল হালকার মজবুত এবং পুরনো কামকরনেওয়ালা প্রতি হালকাওয়ারি ২০ জন সাথী যথাসময়ে উপস্থিত থাকলে ভালো হয়।

 

 


১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইংল্যান্ড তাবলীগের আমির হযরত [মাওলানা ইউসুফ মুতালা] সাহেব, কানাডারAmarEman002 টরেন্টোতে ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

 

 

 

 

 


আলহামদুলিল্লাহ       — 09-09-19amar eman 001
👓👓👓👓👓

প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশত এতায়াতের সাথী দেওবন্দ মাদ্রাসায় বিভিন্ন বিষয়ের মোজাকরার জন্য এই মুহূর্তে অবস্থান করছেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সহি বুঝ দান করুন এবং হেদায়েত দান করুন।

হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে তাহাকিক করে সুন্নত তরিকায় তাবলীগ করার তৌফিক দান করুন।

Spread the love

One thought on “Monthly Amar Eman

Leave a Reply
আপনি কি ব্যস্ত ? বাজার করার লোক বা সময় পাচ্ছেন না ? তবে এখনই অর্ডার করুন, সময় আর অর্থ বাচান, ডেলিভারী খরচ ফ্রি! অন্য কোন চার্জ নেই। ঢাকা সিটিতে নির্দিষ্ট দিন ও সময়ের ১ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারী হচ্ছে । For Call order - 01752078097, 01752078099, 017520780998